মোছাঃ নিছপা আক্তার হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ শহরের ঘাটিয়া বাজার এলাকায় সাবেক ছাত্রদল সভাপতি পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও গণধোলাইয়ের শিকার ভ্যাট কর্মকর্তা শামীম আল মামুনকে গ্রেফতার না করে উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টায় শতশত ব্যবসায়ীরা হবিগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করে বিচার দাবী করেন। এসময় তারা দুর্নীতিবাজ ভ্যাট কর্মকর্তার অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশ সুপারের বৈঠকের পর ভ্যাট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া ও তার অভিযোগ স্থগিত রাখার শর্তে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীরা থানা ত্যাগ করেন। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, দুর্নীতিবাজ ভ্যাট কর্মকর্তা শামীম আল মামুন হবিগঞ্জে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে উৎকোচ নেয়াসহ দলীয় পরিচয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। সোমবার রাত ১১ টার দিকে তিনি এসডি প্লাজায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এ ভ্যাট কর্মকর্তাকে জনতা আটক করে গণধোলাই দেয়।এসময় চৌধুরীবাজার পুলিশ ফাড়ির কর্মকর্তা উত্তেজিত জনতাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে অবশেষে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি তাকে গ্রেফতার না দেখিয়ে বা তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না নিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় তার অভিযোগ নেয়া হয়। ভ্যাট কর্মকর্তার অভিযোগে ঘটনাস্থলে থাকা হবিগঞ্জ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ জামান খান শুভ, ম্যাংগোর মালিক জনি খান, শুভ দাস, নয়ন দাস, শংকর দাস, জহুর আলীর রকিব, শেখ মামুন, সুজিত রায়, সিটি সেলিমসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামী করা হয়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এতে বাধ্য হয়ে থানা ঘেরাও করেন তারা। তাদের আরও অভিযোগ এ কর্মকর্তার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের নাম দিয়েছে কোন দালালরা। মধ্যরাত পর্যন্ত থানা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে পুলিশ সুপারের আশ্বাসে তাদের কর্মসূচী আপাতত স্থগিত করেন। এসময় ব্যবসায়িক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হবিগঞ্জ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাচ্চু, চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, চাউল কল সমিতির সাধারণ সম্পাদ মইনুদ্দিন খান প্রমুখ। বক্তারা দুর্নীতিবাজ ভ্যাট কর্মকর্তাদের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবী জানান। এছাড়া ভ্যাট কর্মকর্তার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শুভ দাস কর্তৃক দায়ের করা এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করার দাবী জানান তারা। এসময় থানায় অবস্থান করা হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুন্সি জানান, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ব্যবসায়ীদের শান্তভাবে তাদের দাবী উপস্থাপন করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
এর আগে সোমবার রাত ১১টায় এসডি প্লাজায় চাঁদা দাবী নিয়ে ঘাটিয়া বাজার এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃস্টি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পুরুষ ও নারী ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার সুত্রপাত হয়। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে জানাজানি হলে শহরজুড়ে তোলপাড় সৃস্টি হয়। এক পর্যায়ে জেলা ভ্যাট কমিশনার এসে আটক কর্মকর্তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। রাত পৌণে ২টায় এ রিপোর্ট লেখাকালে ওই ব্যক্তি থানায় আটক ছিলো। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল রাতে শামীম আল মামুন নামের ওই অফিসার কোনো সহকর্মী ছাড়াই শহরের বিভিন্ন দোকান পরিদর্শনে যান। এক পর্যায়ে ঘাটিয়া বাজারের এসডি প্লাজার ম্যানেজারের নিকট সেলস রিপোর্ট দেখতে চান। এক পর্যায়ে তিনি ৫ লাখ চাঁদা দাবী করে বলেন এ টাকা দিলে তিনি সবকিছু ম্যানেজ করে দিবেন। নইলে অনেক টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এ সময় তার পরিচয়সহ এতো রাতে পরিদর্শনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এতে উপস্থিত ক্রেতাদের সন্দেহ হলে তাকে আটকে প্রহার করেন। মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে ছুটে আসেন ভ্যাট কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তা ও চৌধুরী বাজার ফাড়ির পুলিশ কর্মকর্তাসহ একদল পুলিশ। কিন্তু উত্তেজিত জনতা শামীম আল মামুনকে ছাড়তে রাজি না। এক পর্যায়ে ম্যাঙ্গু হোটেলের মালিকসহ আরও কয়েকজন এসে তাদের কাছেও এ কর্মকর্তা চাঁদা দাবী করেছে বলে অভিযোগ করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে ঘেরাও করে তাৎক্ষনিক বিচারের দাবী জানান। পরে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশ ও ভ্যাট কমিশনারের আশ্বাসে সদর থানা পুলিশের নিকট তাকে হস্তান্তর করে উত্তেজিত জনতা।